কক্সবাজার কথাপর্যটন

সৈকতে নেই পর্যাপ্ত আলো, ডুবরি দল ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা

কথা প্রতিবেদক

সারাবছরই সমুদ্রের নোনা জলে ঢেউয়ের তালে গা ভাসাতে কক্সবাজার ছুটে আসে লাখো লাখো পর্যটক। কিন্তু বিশে^র দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে নেই পর্যটকদের চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা, সাগর থেকে উদ্ধারের জন্য নেই ডুবুরি দল। এমনকি রাতের সমুদ্র সৈকতে নিরাপদ ভ্রমনের জন্য নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও। এনিয়ে বছরের পর বছর ভোগান্তি পোহাচ্ছে সৈকতের ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা। তাই অচিরেই সমুদ্র সৈকতে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র কিংবা ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিমের দাবী জানিয়েছেন সুশিল সমাজ। পাশাপাশি ডুবুরি দল ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার জোর কথাও বলেছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ঠরা।

স্থানীয় সূত্র জানায় সমূদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের দুরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার । অন্যান্য পয়েন্ট থেকে এর দুরত্ব আরো বেশী। আর এ দীর্ঘ দুরত্বের পথ অতিক্রম করেই প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য যেতে হয় পর্যটকদের।
এ বিষয়ে হোটেল লাবনীর ব্যবস্থাপক মো. রায়হান বলেন, বিশে^র অন্যান্য দেশে সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের উদ্ধারের জন্য ডুবুরি দল, চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র রয়েছে। এয়াড়া আলোক্কজ¦ল তাদের পরিবেশ। এর বিপরীত চিত্রই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বিরাজমান। পর্যটকদের ভ্রমনকে নির্বিঘœ করতে হলে তাদের জন্য সকল সেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

 

সী সেইভ লাইফ গার্ডের কক্সবাজারর ইনচার্জ মো. রাশেদুল আলম জানান, গোসল করতে গিয়ে সমুদ্রে ডুবে যাওয়া পর্যটকদের উদ্ধার করতে কাজ করি আমরা। কিন্তু আমরা ডুবুরি নয়। অনেকক্ষেত্রে সেকারণে আমাদের নানা সমস্যা হয়। মাঝেমধ্যে তলিয়ে যাওয়া পর্যটকদের খুঁেজ পেতে ব্যর্থ হই। এঃাড়া প্রায়ই সময় ছোট ছোট বাচ্চারা দৌড়াতে গিয়ে শরীরের নানা স্থানে আঘাত পায়। এছাড়া গোসল করতে গিয়ে পর্যটকরা প্রবল বেগে ছুটে আসা ঢেউয়ে আঘাত পায়। এদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে দূরের হাসপাতালে যেতে হয়। কিন্তু যদি সৈকতের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র থাকলে পর্যটকদের সমূদ্র ভমন আরো আনন্দদায়ক হতো ।

সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা সানজিদা স্বপ্না বলেন, স্বামী-সন্তান নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছেন। তার ছোট ছেলে দৌড়াতে গিয়ে ব্যথা পেয়েছেন। কিন্তু এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র না থাকায় তাকে যেতে হবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে । কিন্তু তিনি তো পথ চিনেনা। আর ওই পথে যেতে রাজি হচ্ছে না কোন রিকশাচালক।

কক্সবাজর বীচ ম্যানেজম্যান কমিটির সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাতি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, গোসল করতে নেতে পানিতে ভেসে যাওয়া লোকজনকে উদ্ধারের পরে শরীরের অবস্থা খারাপ থাকে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং হাসপাতালে নিয়ে সহযোগিতা করেন লাইফ গার্ডের সদস্যরা। তবে এতটুকুই যতেষ্ট নয়। ওখানে প্রয়োজন ভ্রাম্যমান চিকিৎসা কেন্দ্র।

 

তিনি আরো বলেন, সর্বাধুনিক সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিশ^ দরবারে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে উপস্থাপন করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা দরকার।

ইয়াছির লাইফ গার্ডের ইনচার্জ মোস্থাফা কামাল বলেন, ইয়াছির লাইফ গার্ডসহ অন্যান্য লাইফ গার্ডের সদস্যরা সমুদ্র পাড়ে অসুস্থ্য রোগীদের সহযোগিতা করেন। তারা তাদের তাৎক্ষনিক হাসপাতালে নিতে সহযোগিতা করেন। তারা প্রশিক্ষন নিয়েছে সমুদ্রে ভেসে যাওয়া লোকজনকে উদ্ধারের পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে। তবে সঠিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পেশাদার চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানো প্রয়োজন।
কক্সবাজার টুরিষ্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার ফখরুল ইসলাম বলেন, লাবনী পয়েন্ট থেকে ডায়বেটিকস পয়েন্ট পর্যন্ত সন্ধ্যার পরে অন্ধকার থাকে। এখানে দ্রুত লাইটিং ব্যবস্থা করা দরকার। এছাড়া পর্যটকদের সেবার মান বাড়াতে মেডিকেল টিম ও ডুবুরি দল ভীষন প্রয়োজন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো.কামাল হোসেন বলেন, সমুদ্র সৈকত পাড়ে পর্যটকদের তাৎক্ষনিক চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা নেই। বর্তমানে পর্যটকদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে লাইফ গার্ডেরন সদস্যদের দিয়ে। এছাড়া অসুস্থদের দ্রুত হাসপাতালে আনতে রয়েছে এম্বুলেন্স। তবে তাৎক্ষনিক চিকিৎসার জন্য ভ্রাম্যমান অথাবা স্থায়ী চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন। আর এ ব্যাপারে বীচ ম্যানেজম্যান কমিটির সাথে আলোচনার করে অচিরেই কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র বা মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা করা হবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close