কক্সবাজার কথা

সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন  নীলিমা চৌধুরী!

 

বার্তা পরিবেশক

কক্সবাজার জেলা সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন জেলা যুব মহিলা লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং কক্সবাজার বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট এর সভাপতি দেশসেরা সংগঠক নীলিমা আকতার চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, নিষ্ঠাবান, ত্যাগী, পরিশ্রমী এ নারী নেত্রী দেশের বেকার যুবসমাজ, নারী উন্নয়ন, দারিদ্র বিমোচনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ দেশে-বিদেশে পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা।
জানা গেছে, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারকে সমৃদ্ধশীল পর্যটন নগরী হিসাবে আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে উপস্থাপন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা, বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও সুফল জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে মিশন ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ এর সফল বাস্তবায়নে কক্সবাজার জেলা সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন নীলিমা আকতার চৌধুরী।


নীলিমা আকতার চৌধুরী বিগত ৯০ দশক হতে তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে (নিজস্ব) বিশেষতঃ চট্টগ্রাম শহরে প্রায় লক্ষাধিক তৈরী পোষাক শিল্প শ্রমিক, ট্রেড ইউনিয়ন নেতাকর্মী এবং কক্সবাজার জেলায় আরো প্রায় লক্ষাধিক হতদরিদ্র, অসহায়, সংখ্যালুঘু সম্প্রদায় ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাধারণ জনগন ও নেতাকর্মীদেরকে সার্বিক সহযোগীতা করে আসছেন ।

নীলিমা আকতার চৌধুরী কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁর বাবা মরহুম শেখ মফিজুর রহমান চৌধুরী মুক্তিযুদ্বের অন্যতম সংগঠক, সফল রাজনীতিক এবং কক্সবাজার জেলার বৃহত্তর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর পিতা মরহুম শেখ মফিজুর রহমান চৌধুরীর অবিস্মরণীয় অবদান রয়েছে।


শেখ মফিজুর রহমান চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রামু, কক্সবাজার, বান্দরবানের নাইক্ষংছড়িতে দূর্গম এলাকাসমুহে মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন তথ্য, ট্রাক মারফত রসদ সামগ্রী, ঔষধ, এমনকি অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য সহযোগিতার কারণে বর্বর পাক সেনা ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর বাহিনী তাঁদের বসত বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। একারনে তাকে রাজাকার, আলবদর বাহিনীর বিদ্রোহী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
এমনকি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাঁর বাবাকে বন্দী করে কক্সবাজার এয়ারপোর্ট এলাকায় রাজাকার, আলবদর বাহিনী অমানবিক নির্যাতন এবং মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে। ওই সময় তাঁদের পুরো পরিবার বিশেষ করে তাঁর মা-বোনকে বিভিন্ন পাহাড়ে লুকিয়ে, সাগরে লবন বোঝাই ট্রলারে দিনের পর দিন কাটাতে হয়েছে।
মরহুম শেখ মফিজুর রহমান চৌধুরী আওয়ামীলীগের বিভিন্ন কার্যক্রমে আর্থিক সহযোগীতা ছাড়াও সকল কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তীতে মরহুম শেখ মফিজুর রহমান চৌধুরীর ব্যক্তিগত ব্যবহারকৃত জিপগাড়ী সাবেক রাষ্ট্রদূত মরহুম ওসমান সরওয়ার আলম চেীধুরী তার নির্বাচনী জনসভায় (উখিয়াতে) ব্যবহার করায় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের রসদ সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত ট্রাকগুলোতে রাজাকার, আলবদররা ইর্ষান্বিত অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়।
এছাড়াও মরহুম শেখ মফিজুর রহমান চৌধুরীর পরিবারের অর্থায়নে জোয়ারিয়ানালা পরবর্তীতে রশিদনগর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স এর জন্য জমি, বেশ কিছু কমিনিউটি স্কুল, রেজিস্ট্রেট প্রাইমারী স্কুল, এতিম খানা, মক্তব, মাদ্্রাসা, মসজিদ এ নিজস্ব জমি দান (প্রায় ৪০ বিঘা) ও নির্মাণ করা হয়। মরহুম শেখ মফিজুর রহমান চৌধুরী জনকল্যাণমূলক কাজে সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন। তিনি মহান স¦াধীনতা যুদ্ধে নিঃস্ব, আহত পরিবারগুলোকে সার্বিক সহায়তা করেছিলেন।
মরহুম পিতার মতো নীলিমা আকতার চৌধুরীও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিতপ্রান, ত্যাগী কর্মী। তাঁর পরিচালনাধীন বেসরকারী সমাজ উন্নয়নমুলক সংস্থা “অগ্রযাত্রা”র রয়েছে বিশাল অভিজ্ঞ কর্মী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক। বিগত ৯০ এর দশক হতে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জনসমক্ষে তুলে ধরে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এবং নতুন প্রজন্ম, তরুন ও পিছিয়ে পড়া নারীসমাজের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান-এর অবদান এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন অবদান/অর্জনসমুহকে ব্যাপক প্রচার প্রচারনা ও বিভিন্ন ফোরামে, জনসমক্ষে/জনসভায় উপস্থাপনার মাধ্যেমে সামাজিক আন্দোলনের ন্যায় সাড়া জাগানো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষতঃ ১/১১ পট পরিবর্তন পরবর্তী সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা অবরুদ্ধ হলে নীলিমা আকতার চৌধুরী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ, মরহুম জননেতা এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীসহ অবরুদ্ধ নেত্রীর মুক্তি দাবীতে শত বাধা বিপত্তি ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেতাকর্মী, সাধারন পোষাক শিল্প শ্রমিকদের নিয়ে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে রাজপথে জনসভা ও পথসভায় জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেন।


নীলিমা আকতার চৌধুরী সমাজের পিঁছিয়ে পড়া নারী, বেকার যুব ও যুব মহিলাদের ভাগ্য উন্নয়ন এবং তাদের অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে চট্রগ্রাম ও কক্্রবাজারসহ সারাদেশে বিভিন্ন জেলা, উপজেলায় দরিদ্র-হতদরিদ্র ও বেকার যুব সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তথা আতœকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয়বর্ধনমূলক জীবিকা, দারিদ্য্র বিমোচন কর্মসুচী, জনস্বাস্থ্য, দূযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ঝুকি হ্রাস, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, আশ্রয়ন প্রকল্প, বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট বিপর্যয়ে জরুরী ত্রান ও উদ্ধার তৎপরতা, স্বল্পমুল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা, রোহি্গংা শরণার্থীদের বিভিন্ন মানবিক সেবা প্রদান (ত্রান ও শীতবস্ত্র বিতরন, বিশুদ্ধ পানিবাহী ট্রাক, গভীর নলকুপ, স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন, গোসলখানা নির্মান, মেডিকেল ক্যাম্প, শিশু বিনোদন কেন্দ্র, আশ্রয়-তাবু উন্নতকরণ, বায়োগ্যাস ও কমিউনাল কিচেন স্থাপন) ইত্যাদি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও ক্ষমতায়ন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, গ্রামীন রাস্তাঘাট (রাস্তাসহ শতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প) বিশেষ করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাঘাট পূর্ণ নির্মাণ ও সংস্কার এবং ব্যাপক হারে ত্রান সহায়তা প্রদান করে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে উক্ত এলাকায় ( চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সুনাম অক্ষুন রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে আপনার বলিষ্ট নেতৃত্বের মাধ্যমে মিশন ভিশন-২০২১ ও ২০৪১কে ধারণ করে এবং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নীলিমা আকতার চৌধুরী বিগত ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ইং সনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। বিগত ২০১৪ সালে ১৮ দলীয় জোটের বিভিন্ন ধ্বংসাত্বক কার্যক্রমের প্রতিবাদ ও প্রতিহত করতে গিয়ে নীলিমা আকতার চৌধুরী ব্যক্তিগতভাবে অনেক হয়রানী, হয়রানী মূলক মামলা ও বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের রোষানলে পড়েন।
সফল সংগঠক নীলিমা আকতার চৌধুরী দেশের বেকার যুবসমাজ, নারী উন্নয়ন, দারিদ্র বিমোচনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ সারাদেশে শ্রেষ্ঠ যুবসংগঠক হিসাবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনার কাছ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ যুবসংগঠক ২০১৬ পুরস্কার, দক্ষিণ এশিয়ায় কমনওয়েলথ ইয়ুথ এওয়ার্ড ২০০৭, জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প ফাউন্ডেশন (এস,এম,ই) শ্রেষ্ট মহিলা উদ্যোক্তা পুরষ্কার – ২০০৮, শ্রেষ্ট যুব হিসাবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার হতে যুব পুরষ্কার – ২০০৫ সহ বিভিন্ন দেশী ও বিদেশী প্রতিষ্ঠান হতে সম্মাননা লাভ করেন।


জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় যুব কেন্দ্র, সাভার, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর ন্যাশনাল ইয়ুথ লিডারশীপ ফোরামে সারাদেশ হতে আগত যুব সংগঠকদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সহ-সভাপতির পদে নির্বাচিত হন। বিগত ৩০ বৎসর যাবৎ শুধু কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এলাকায় আড়াই লক্ষাধিক হতদরিদ্র ও বেকার যুব সমাজকে তাঁর দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যেমে সেবা করার সুযোগ হয়েছে। কক্সবাজার জেলায় তাঁদের পরিবার ও ব্যক্তিগতভাবে নীলিমা আকতার চৌধুরীর ব্যাপক সুনাম ও জনপ্রিয়তা রয়েছে ।
নীলিমা আকতার চৌধুরী জানান, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারকে সমৃদ্ধশীল পর্যটন নগরী হিসাবে আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে উপস্থাপন, জোরপূর্বক বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের নাগরিক (রোহিঙ্গা) সমস্যার সুষ্ঠ ও টেকসই সমাধান, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে তিনি কক্সবাজার জেলায় সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close