কক্সবাজার কথা

দেড় বছরেও জানা যায়নি রমজানের খুনি’র পরিচয়!

কথা প্রতিবেদন

২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর খুরুশকুল ইউপি’র ১ নং ওয়ার্ডের তেতৈয়ার দক্ষিণ পাড়া গ্রামের ধানক্ষেত থেকে মুখমন্ডল সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ দাহ্য পদার্থ দিয়ে পোড়ানো অবস্থায় কিশোর রমজান আলী (১৫)’র মৃতদেহ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ। এরপর কেটে গেছে ১ বছর ৭ মাস । দীর্ঘ এই সময়ে ৪ বার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তণ করেও খুনের কারন কিংবা খুনিকে সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। সেসময়ের আলোচিত খুনের ঘটনাটি মনিটরিং করছেন ডিআইজি। তারপরও এক পুলিশ কর্মকর্তার গা ছাড়া ভাবের কারণে খুনের রহস্যের কোন কুল কিনারা হয়নি এখনো এমনটাই অভিযোগ সংশ্লিষ্ঠদের।
নিহতের পরিবার,পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, খুরুশকুলে ৬ নং ওয়ার্ডের ঘোনারপাড়ার মোহাম্মদ কালুর ছেলে রমজান আলী টমটম চালক ছিলেন। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর প্রতিদিনের মত টমটম নিয়ে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরেনি। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর বিকেলে শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার সিকদারপাড়া গ্রামের রাস্তার মাথা থেকে টমটমটি পাওয়া যায়। তার দুদিন পর ৩ ডিসেম্বর সকালে তেতৈয়া থেকে মুখ ঝলসানো অবস্থায় রমজানের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুৃলিশ। ওই ঘটনায় সেদিন রাতেই কক্সবাজার সদর থানায় নিহতের মা ফাতেমা খাতুন বাদী হয়ে রমজানের সাবেক দুলাভাই আবদুর রশিদ (৩৫) ও তাঁর বন্ধু আবদু শুক্কুর (৪২)’র বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় কক্সবাজার সদর থানার এসআই জামাল হোসেন। ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মামলাটি তিনি তদন্ত করেন। তবে এই সময়ে তিনি কোন অভিযুক্তকে আটক কিংবা খুনের রহস্য বের করতে পারেনি।
এ বিষয়ে এসআই জামাল হোসেন বলেন, এটি একটি ক্লুলেস মার্ডার। ঘটনাস্থল থেকে কোন ধরনের আলামত উদ্ধার হয়নি। অভিযুক্তদের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এইকারণে মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিবি’র এসআই মো. আবুল কালাম ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্বভার গ্রহনের পর ১৩ এপ্রিল মামলায় অভিযুক্ত আব্দু শুক্কুরকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপার্দ করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ২৩ এপ্রিল কক্সবাজার সদর আদালতের বিচারক আসামীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কিন্তু ডিবি পুলিশ আসামীকে রিমান্ডে নেননি। এই সুযোগে আসামী ওই বছরের ৮ অক্টোবর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন।
এবিষয়ে আব্দু শুক্কুরকে আটককারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ( ডিবি)’র এস আই মো. আবুল কালাম বলেন, কক্সবাজার ডিবিতে থাকা অবস্থায় আমি ওই মামলার অভিযুক্ত শুক্কুরকে গ্রেফতার করে রিমান্ড আবেদন করি। কিন্তু এরপরপরই আমি বদলী হওয়ার কারনে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসির আদেশে এস আই মো. রিয়াদুল আলমের কাছে হস্তান্তর করি।
এ বিষয়ে মো. রিয়াদুল আলম বলেন, গত তিনমাস আগে আমি কক্সবাজার থেকে বদলী হয়েছি। এর আগ পর্যন্ত মামলাটির তদন্ত আমি করেছি। তবে কোন আসামী আটক হওয়া কিংবা রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি আমার জানা নেই।
তিনি আরো বলেন, মামলাটি চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি কার্যালয় থেকে মনিটরিং করা হয়। এটি মনিটরিং করেন ডিআইজি মহোদয়। মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ার এটি তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেওয়ার জন্য লিখিতভাবে অবহিত করেছি। খুব সম্ভবত মামলাটির দায়িত্বভার এখন ওই সংস্থার কাছে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলাটি এখন তদন্ত করছেন ডিবির এসআই রাজীব সূত্রধর।
এবিষয়ে রাজীব সূত্রধর বলেন, মামলার এক আসামী জামিনে মুক্ত। অন্যজনের হদিস নেই। এছাড়া হত্যার সাথে সম্পৃক্ত কোন ক্লুও আমাদের হাতে নেই। তাই এই মামলার অগ্রগতিও নেই। তবে মামলাটি নিয়ে কাজ করছি ।
এবিষয়ে মামলার বাদী ফাতেমা খাতুন বলেন, পুলিশ শুধু আমাদের কাছ থেকে তথ্য চায়। তারা বলে আসামীর অবস্থান নিশ্চিত করে তাদেরকে জানাতে। একজনের অবস্থান জেনে তাদেরকে বলার পর তারা ধরে নিয়ে গিয়েছিল। কি›তু এরপরের খবর আমাদেরকে জানানো হয়নি।
কক্সবাজার সদর আদালতের জিআরও রাশেদুল আলম বলেন, এই মামলাটির জন্য এই পর্যন্ত ১৩ বার আদালত থেকে ধার্য তারিখ নির্ধারন করা হয়েছে। চলতি মাসের ২৭ তারিখ আবারো মামলাটি আদালতে উথ্থাপিত হবে।
এবিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. হুমায়ন কবির বলেন, এটি একটি ¯্পর্শকাতর হত্যা মামলা। এই হত্যার জড়িতরা সুচতুর ভাবে হত্যার সমস্ত ক্লু নষ্ট করেছে। তাই এই মামলা সুরাহা করতে সময় লাগছে।
তবে তিনি আরো বলেন, মামলাটি অগগ্রতি পর্যবেক্ষণ করছেন বিভাগীয় ডিআইজি। আশা করছি খুব শ্রীঘই মামলাটির অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close