কক্সবাজার কথা

চার-ছক্কার উৎসব শুরু আজ

কথা ডেস্ক

মিরপুরে প্রাণ ফিরেছে—এটুকু বললে যেন পুরোপুরি বলা হয় না। বলতে হয়, মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম এখন প্রাণচাঞ্চল্যে টগবগ করে ফুটছে। উপলক্ষ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের লিগ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। এ দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমকালো আয়োজন। অবশ্য বিপিএলকে আক্ষরিক অর্থে ‘ঘরোয়া’ বলা চলে কি না, সেটি নিয়েই তর্ক হতে পারে জমজমাট।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিশ্বতারকাদের কলতানে মুখর এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটভূমি। সাতটি ফ্র্যাঞ্চাইজির কয়েক শ ক্রিকেটারকে নিয়ে বসে গেছে চাঁদের হাট। যেদিকে তাকানো যায়, টি-টোয়েন্টির ফেরিওয়ালারা পসরা নিয়ে উপস্থিত। অনুশীলনেও দেখা হয়ে যাচ্ছে সতীর্থ-প্রতিপক্ষদের সঙ্গে। কালই দুপুরে যেমন ঢাকা ডায়নামাইটসের তিন উইন্ডিজ তারকা সুনীল নারাইন, আন্দ্রে রাসেল ও কাইরন পোলার্ড দূর থেকে গভীর মনোযোগে দেখছিলেন রংপুর রাইডার্সের অনুশীলন। সর্বশেষ টুর্নামেন্টের ফাইনালে এই রংপুরের কাছেই হারতে হয়েছিল ঢাকাকে। তিন ক্যারিবীয় ‘বন্ধু’র সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করে গেলেন রাজশাহী কিংস অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। খানিক পর আবার নারাইনের সঙ্গে একই উইকেটে পাশাপাশি বোলিং করলেন।

আজ উদ্বোধনী ম্যাচের দুই প্রতিপক্ষ রংপুর রাইডার্স ও চিটাগং ভাইকিংস অধিনায়ক, জাতীয় দলের সতীর্থ মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মুশফিকুর রহিম নিজ নিজ অনুশীলন শেষে আলোকচিত্রীদের অনুরোধে একসঙ্গে ছবি তুললেন। তারপর দুজনের আড্ডা। দিনের শেষে একইভাবে ফ্রেমবন্দী আজকের দ্বিতীয় ম্যাচের দুই অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দেখে মনে হয় মিরপুরের ‘হোম অব ক্রিকেট’ এক ‘উৎসবের বাড়ি’।

তবে এ তো আর পিকনিক টুর্নামেন্ট নয়। বিপিএলের ষষ্ঠ সংস্করণকে তুমুল ক্রিকেটীয় উত্তেজনার উৎসব করে তুলতে প্রত্যয়ী সবগুলো দলই। বর্তমান রানার্সআপ ঢাকা ডায়নামাইটসের অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল যেমন বললেন, ‘দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার টুর্নামেন্ট হতে চলেছে। বিশেষত যেখানে এবি ডি ভিলিয়ার্স, ডেভিড ওয়ার্নারের মতো ক্রিকেটাররা রয়েছে। আমরা সবাই জানি, ওরা কেমন বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে।’

রাসেলের কথাই বলে বিপিএলের আবেদন এবং গ্রহণযোগ্যতা কতটা বেড়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। টি-টোয়েন্টির ফেরিওয়ালা ক্রিস গেইল তো আগে থেকেই ছিলেন। এবার বিপিএলে আলো ছড়ানোর নক্ষত্রপুঞ্জে যোগ হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স (রংপুর রাইডার্স), সিলেট পর্বে খেলার কথা তাঁর। সিলেট সিক্সার্সের অধিনায়ক হিসেবে পরশু পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে ডেভিড ওয়ার্নারকে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ আছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসে। বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিটা না হলে এবারের বিপিএলে সময়ের বড় দুই তারকা স্মিথ-ওয়ার্নারকে হয়তো পাওয়াই যেত না। তবে এঁদের সঙ্গে ডি ভিলিয়ার্সের উপস্থিতি টুর্নামেন্টের মর্যাদা যে বাড়িয়ে দিয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মাশরাফি কাল বললেন, ‘এবার কিছু ভালো প্লেয়ার এসেছে। আগেরবার যারা এসেছে তার থেকেও বেশি মানসম্পন্ন এবং বিশ্ব ক্রিকেটের ফর্মে থাকা খেলোয়াড়েরা এবার আছে। আশা করছি, টুর্নামেন্টের গ্রাফটা ওপরের দিকে যাবে আশা করছি।’

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অলরাউন্ডার ল্যান্স ক্লুজনার রাজশাহী কিংসের কোচ। বৈশ্বিক মানদণ্ডে বিপিএলকে ক্রমেই বড় হয়ে উঠতে দেখছেন তিনি, ‘আমার মনে হয়, বিপিএল প্রতিবছর আরও বড় হচ্ছে এবং ভালো হচ্ছে। এটা দারুণ সমর্থকপ্রিয় ও দর্শকপ্রিয় প্রতিযোগিতা। বিপিএল যে এই ধরনের খেলোয়াড়দের (ডি ভিলিয়ার্স-ওয়ার্নার-স্মিথ) আকৃষ্ট করতে পারছে, এটা তো অনেক বড় ব্যাপার। বিশ্বের সেরা সব খেলোয়াড়ের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাচ্ছে (স্থানীয়) খেলোয়াড়েরা। আর সেটা সম্ভব হয়েছে বিপিএলের কারণেই।’

কথাগুলো মিথ্যা নয় মোটেই, আর সে কারণেই অনেকেই মনে করেন আইপিএলের পর বিপিএলের সম্ভাবনা আছে বিশ্বের জনপ্রিয়তম ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট হয়ে ওঠার। ড্রাফটের বাইরে থেকে নেওয়া বিদেশি ক্রিকেটারদের দলে আনতে যে অর্থ ব্যয় করা হয়, সেটিও আইপিএলের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বলে শোনা যায়। ফিক্সিং ও খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলাজনিত যতসব কালো দাগ, তা-ও সর্বশেষ দুই আসরে মুছে নিতে পেরেছে বিসিবি। এবারের আসরে সেই তৃপ্তিকে আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ আয়োজকদের সামনে। আর অংশগ্রহণকারী সাত দলের সামনে? লক্ষ্য একটাই—বিপিএল ষষ্ঠ আসরের শিরোপা।

সূত্র: প্রথম আলো

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close