কক্সবাজার কথাশিক্ষা কথা

ঘুম থেকে জাগেনি  এসএসসি পরীক্ষার্থী লাভীব 

কথা প্রতিবেদক
শনিবার তার গণিত পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই পূর্বের করা অংকগুলো একের পর এক রিভাইজ দিচ্ছিল। বেশকিছু চ্যাপ্টার দেখা শেষ করে রাত ১২টা ঘুমিয়ে পড়ে সে। প্রতিদিনের মতো ফজরের আজানের পর ঘুম থেকে ডাকা হয় তাকে। কিন্তু কোন সাড়া নেই। গভীর ঘুমে পড়েছে ভেবে আরেকটু ঘুমাক বলে চলে যায় স্বজন। কিন্তু সকাল ৮টা পর্যন্ত কোন সাড়া না পেয়ে রুমে ঢুকে দেখে বিছানায় পড়ে আছে নিথর দেহ।
বলছি কক্সবাজার সদরের পোকখালী ইউনিয়নের পূর্ব পোকখালী এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী ইফতেখারুল আলম লাভীব’র কথা। সে শুক্রবার প্রথম প্রহর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত কোন এক সময়ে ঘুমের ভেতর না ফেরার দেশের বাসিন্দা হয়েছে।
ইউনিয়নের পূূর্ব পোকখালী এলাকার পল্লী চিকিৎসক নুরুল আলমের বড় ছেলে ইফতেখারুল আলম লাভীব কক্সবাজার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ স্কুল থেকে এবারের এসএসসি  পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল। সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা। লাভীব পরিবারের বড় ছেলে। তার আরো দুটি ভাই ও একটি বোন রয়েছে।
লাভীবদের প্রতিবেশী ও জেলা আইনজীবি সমিতির সদস্য এডভোকেট একরামুল হুদা এবং সমাজকর্মী লেদু মিয়া তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শুক্রবার বাদে জুমা জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে বলে জানান তারা। লাভীবের মৃত্যুতে তার বাবা-মা বারবার অজ্ঞান হচ্ছেন। শোকের ছায়া নেমেছে স্বজনদের মাঝেও।
পরিবারের বরাত প্রতিবেশী লেদু মিয়া জানান, লাভীব কক্সবাজার শহরের আলীর জাঁহাল এলাকায় নানার বাড়িতে থেকে লেখা পড়া করে আসছিল। শনিবার গণিত পরীক্ষার প্রস্তুতির পড়া পড়ে অন্যরাতের বৃহস্পতিবারেও পড়া শেষ করে রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে ঘুমিয়ে পড়ে। ভোরে ফজরের নামাজের জন্য একাধিক বার ডাকাডাকি করলেও সাড়া মেলেনি। নানার বাড়ির সদস্যরা মনে করছিল রাতে ঘুমানোর কারনে হয়ত উঠতে দেরী করছে। এমনটি ভেবে আর ডাকেননি তারা। কিন্তু ভোর পেরিয়ে সকাল ৮ টা পর্যন্ত না উঠায় সকলের সন্দেহ জাগে। পরে রুমে ঢুকে আরো ডেকে সাড়া না পেয়ে গায়ে হাত দিয়ে বুঝতে পারে লাভীব বেঁচে নেই।
তার এ মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার পরিজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমেছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃতদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
পোকখালী ইউপি চেয়ারম্যান রফিক আহমদ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আল্লাহ কখন কাকে ডেকে নিয়ে যান এটা কেবল তিনিই জানেন। কিন্তু পিতা-মাতার আগে অকস্মাৎ সন্তান মারাগেলে মেনে নেয়া কষ্টকর। লাভীবের বিষয়েও একই অবস্থা হয়েছে। শোকের মাতম চলছে তার পরিবারে।
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close