দেশের কথা

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক: তথ্যমন্ত্রী

প্রথম আলো

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের সর্বোত্তম হাসপাতাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁর চিকিৎসার জন্য সরকার ও প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক।

চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানজি পুকুরপাড়ে নিজ বাসভবনে আজ শনিবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তথ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

দেশের সেরা চিকিৎসা পাওয়ার জন্য বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে বলে জানান হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, দেশে আরও অনেক হাসপাতাল তো আছে। কিন্তু বিএসএমএমইউতে সেরা চিকিৎসা পাওয়া যায়। তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত আন্তরিক।

খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম গতকাল শুক্রবার বিকেলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে যে মন্তব্য করেন, সেটার সমালোচনা করেন তথ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার বোন সাংবাদিকদের যে কথাগুলো বলেছেন, তার সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের হুবহু মিল আছে। তাঁরা অনেক কথা বলেছেন। শুধু বিদেশ নিয়ে যাওয়ার দাবি যে তুলছেন, তা নয়, দুই সপ্তাহ ধরে খালেদা জিয়াকে কোনো চিকিৎসক দেখতে যায়নি বলে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন।
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘আমি বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে, খালেদা জিয়াকে নিয়মিত চেকআপের মধ্যে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সিনিয়র চিকিৎসকরাও তাঁকে এক-দুই দিন পর দেখতে যান। তারপরও বিএনপির নেতারা নানা কথা বলে খালেদা জিয়ার জন্য সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন।’

প্রসঙ্গত, গতকাল খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম অভিযোগের সুরে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শরীর অত্যন্ত খারাপ। এখানে চিকিৎসা হচ্ছে না, হবেও না। আমরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিতে চাই।’

বিএনপি নেতা এবং খালেদা জিয়ার বোনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার পা ও কোমরের ব্যথা বার্ধক্যের কারণে হচ্ছে। বয়সের কারণে স্বাস্থ্যজটিলতাও আছে। এগুলো নতুন সমস্যা নয়। এই সমস্যাগুলো নিয়ে তিনি দুবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির মতো একটি দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্বও পালন করেছেন খালেদা জিয়া। বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন। নতুন করে তাঁর কোনো সমস্যা দেখা যায়নি।

বিদেশ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আগে জামিন হতে হবে। জামিন পাওয়ার পর আবার আদালতের অনুমতি লাগবে। খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যেতে পারবে কি না, সেটি পুরোপুরি আদালতের বিষয়। তিনি জামিন পাবেন কি না, সেটিও সরকারের বিষয় নয়। আদালত যদি তাঁকে জামিন দেন, বিদেশে যেতে অনুমতি দেন, তাহলে বিদেশে নেওয়ার প্রসঙ্গটি আসবে। এটি পরিপূর্ণভাবে আদালতের এখতিয়ার।

হাছান মাহমুদ প্রশ্ন তুলে বলেন, দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে কি সরকার সহায়তা করবে? তাঁরা একবার বলেন আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবেন। আবার কেউ বলছেন, তাঁর জামিন আবেদনের সময় যেন বিরোধিতা করা না হয়। তাঁদের পুরো বক্তব্য স্ববিরোধিতায় ভরা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close